সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

তুমি আসবে বলে

কবি আলী হোসেন : তুমি আসবে বলে তুমি চোখ খোলো দেখো আঁধার রয়েছে আলোর মধ্যে এ আলো তোমার জন্য নয় নিষ্পাপ রোদের মধ্যে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি কতকাল!               তুমি বলেছিলে, সেখানেই আসবে তুমি শৈশবের বসন্ত গেল। তুমি ছিলেনা একমুঠো যবের আটায় তোমার মুখ এঁকেছি প্রতিদিন কথা দিয়েছিলে নতুন সূর্যের ফসল হয়ে আসবে।  থাকবে আমার বামপাঁজরের নিচে                দিনান্তে, তুমি এলে না কৈশোরের চঞ্চলতায় তোমাকে এঁকে নিয়েছি খাতায় কচুপাতায় জমা শিশিরের  স্ফটিক ছবিতে দাঁড়িয়ে থেকেছি নিষ্পলক হলুদ বারান্দায়              তুমি আসবে বলেছিলে তাই।             তবুও তুমি এলেনা।  কৈশোর চলে গেল ভুলে, গেল ভোরের বাতাস। সময়ের মত দূপুরের তাতে ঘেমেছি,পুড়েছি সেও অনেককাল হল              তবু তুমি এলেনা তুমি কি এখনও বন্দি বাস্তিলের দুর্ভেদ্য কুঠরিতে পলাশীর মাঠ হয়ে রাইটার্সের বারান্দায় স্বপ্ন দেখেছি, লাল সালুকে ভেসে আসবে  আমার ছোট্ট কু...

এ কোন ধর্ম

কবি আলী হোসেন, ধর্ম বিষয়ক কবিতা - এ কোন ধর্ম  এ কোন মানুষ দেখছি আমি এ কোন ধর্ম সই এ যে মানুষ মারার বিধানদাতা, মানুষ গড়ার কই? আল্লাহ নাকি সব-ই পারেন, ভগবানও সে'ই চুপ করে কেন সইছে তারা চোখ কি তাদের নেই রমজানের সিয়াম-সাধন বিধান দেবে যারা সংযমের নিয়েত করে মারবে মানুষ তারা? মানুষ মারার বিধান যদি ধর্মের বিধান হয় মানুষ হয়ে মানছি কেন কিসের এত ভয়? মানুষ কেবল করবে পালন ধর্মগুরুর বিধান! জল্লাদ হয়ে মানুষ মারার তারাই দেবে নিদান? এ কোন মানুষ দেখছি আমি এ কোন ধর্ম সই এ যে মানুষ মারার বিধানদাতা, মানুষ গড়ার কই? মানুষ পারে অমানুষদের পেখম ছেটে দিতে ময়ূর সেজে নাচ্ছে যারা, শয়তানীদের মিতে বেহেশত কিম্বা স্বর্গে যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে যারা বলছে মারো মানুষ কবে চিনবো তারা কারা মিথ্যা পূজা মিথ্যা রোজা মিথ্যা প্রেমের গান মানুয যদি হেলায় হারায় ধর্মের নামে প্রাণ কী প্রয়োজন তোমার পূজো, তোমার নামে নমাজ তোমার সেবক রক্ষা পায়না বেকুব ব’নে সমাজ তোমার নামে ব্যাবসা করে, রাজ ক্ষমতার নেশায় ধর্মটাকে নামিয়ে নিয়ে বানিয়ে ফেলে পেশায় তাদের তুমি শাস্তি দেবেই থাকবো বসে তাই? মানুয গড়ার সেই কারিগর তোমার কাছে নাই! এ কোন মানুষ দেখছি আ...

এদেশ ভরা মানুষ চাই

একশ বছর আয়ু দেবে? সোনায় মোড়া ভাগ্য তাও! এসব আমার চাইনা কিছু, শুধু এদেশ ভরা মানুষ চাই, তুমি আছো, বলে সবাই তিলক টুপি মাথায় নেয় আমি শুধু বলি তোমায়, শোনো মানুষ ছাড়া চাওয়ার নাই। সন্ধ্যা নামে আজান শাঁখে জোনাক জ্বলে আঁধার ছায় আমি শুধু বাজাই বাঁশি, জেনো মানুষ পাওয়ার আশায় তাই, ডাকলে পাবো হুরী পরী? অপ্সরা বা যা চাই তাই! বেহেস্ত-স্বর্গে চাইনা এসব, শুধু এদেশ ভরা মানুষ চাই। আমায় দেবে শোনার হরিণ? আসমানী চাঁদ হাতে তাই! এসব আমার চাইনা কিছুই, শুধু মানুষ গড়ার মন্ত্র চাই, মুখে নিয়ে বেহেস্ত-বাঁশি শোনাও আমায় স্বর্গসুর স্বর্গ আমার এদেশ ভূমি, শুধু এদেশেতেই বাঁচতে চাই। এই বাংলাই স্বর্গ আমার এদেশ আমার বেহেস্ত তাই এদেশ ছেড়ে চাইনা যেতে, শুধু এদেশেতেই মরতে চাই, পারবে তুমি এ অধিকার সর্বজনীন করতে সাঁই? তবেই জেনো বলবে সবাই, শুধু তুমি ছাড়া মাবুদ নাই।                –------------------------ দেখুন ফেসবুকে এখানে ক্লিক করে

কথা ভাঙার কথা

আলী হোসেনের প্রেমের কবিতা :  কথা ভাঙার কথা আমার বুকের ভেতর তুমি শিরা উপশিরার মত বিছিয়ে রেখেছো নিজেকে পিছনেও তুমি, ঠিক শিকড়ের মত, যেদিকে তাকাই সেদিকেই আছো তুমি অনন্ত আকাশের মত খোলা বুক নিয়ে এ আশ্বাস তোমারই দেওয়া। তুমি বলেছিলে, আমার জন্য এক সোনালী সকাল এনে দেবে যেখানে থাকবে এক চিলতে চাঁদের মত স্বপ্নগুচ্ছ  একমুঠো নতুর আলোর ঝলকানি; আমার নিকষ-রাতের আকাশে তুমি থাকবে রাত পাহারার জোনাক হয়ে। এ আশ্বাস তোমারই দেওয়া। তুমি সেই আলোয় বানাবে স্বপ্নপুরীর জীয়নকাঠী পঙ্খীরাজে সওয়ার হবে অচিন গাঁয়ের রাজপুত্রের মত তুমি, আসবে স্বপ্নের কানাগলিতে  যেখানে ঝিমিয়ে আছে আমার অপুষ্ট স্বপ্নগুলো এ প্রতিশ্রুতি তোমারই দেওয়া। আমি বিশ্বাস করেছিলাম, আলোর স্বপ্নে স্নাত হব আমি, হবে ভেতরের অন্ধকার। রাতের জোনাক হয়ে আসবে ঘরের কোণে বিজলি বাতির মতো। অন্ধকারের শৃঙ্খল ভেঙে  আমাকে মুক্তি দেবে ভরা জ্যোৎস্নার চাঁদের মত কোন এক নতুন ডেরায় এ শপথ তোমারই নেওয়া। আমি কথা রেখেছি। হাত রেখেছি তোমার হাতে.... সেও কয়েক দশক হয়ে গেল  কিন্তু এখনও বুঝিনি  বুকের কাছে জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে বদলে গেল শৃঙ্...

ঈগলের জ্ঞাতি

ঈগলের জ্ঞাতি আলী হোসেন তোমার সেই ছোট্টবেলার কথা মনে আছে যা বলেছিলে প্রথম দেখার দিন? বলেছিলে তোমার প্রিয় বন্ধুর কথা; যে বলেছিল, 'জানিস মোহিত তোর মধ্যেই আমি আমাকে দেখতে পাই, তুই পাস?' তুমি বলেছিলে, পাই। আরও অনেক কিছু দেখি সেখানে। সবুজ মাঠ, হেলে পড়া বট, মজে যাওয়া নদীর দীর্ঘশ্বাস। দেখি একমুখ দাড়ি নিয়ে ন্যুজ বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে আমাকে বুকে নিয়ে। বুক ভরে শ্বাস নিতে নিতে দেখি আমার মায়ের নিশ্চিন্ত শ্বাসের মধ্যে ছাদহীন কুঠিরে, যে দাঁড়িয়ে, সে তো তুই-ই! সেদিন আরও অনেক কিছু বলেছিলে তুমি। অনেক কঠিন লেগেছিল সেসব। আজ যখন বুঝতে পারি তোমার সেই সহজ কথাগুলো, তখন তুমি ঝাপসা হয়ে গেলে। অবুঝ আর কঠিন হয়ে গেলে, ঘোর সন্ধ্যায়। আবছা আলোয় মাঝে মাঝে দেখতে পাই ঈগলের লাল চোখ, তোমার কপালের দু'পাশে! গেরুয়ার বদলে যাওয়া রঙের আভায় কী করে সাহসে বদলে গেল তোমার ভয়? কী করে বললে, 'আমার ওসব নেই; আমিও তো ঈগলেরই জ্ঞাতি, আমি তাদেরই লোক !' --------------***----------- লেখাটি নতুন গতির ঈদসংখ্যায় প্রকাশের জন্য সম্পাদক মহাশয় নিয়েছিলেন। জানা হয়ে ওঠেনি কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছে কিনা।

অসহিষ্ণুতা

অসহিষ্ণুতা আলী হোসেন  আমাকে সে কব্জা করে ফেলছে আমার শিরায় উপশিরায় জমাট বেঁধেছে শীতলতর আকাঙ্খা হয়ে কিন্তু কেন? উত্তর খোঁজার আলো নেই, অন্ধকারকে দোষ দিচ্ছি তাই, কারণ, এটাই বড়ো সস্তা অথবা সহজও সস্তার কাছে পরাজিত আমার যুক্তিবোধ, তাই ভুলের প্রতিরোধে ভুলকে আকড়ে ধরছি হাতিয়ার ভেবে, অপরাধের প্রতিকারে অপরাধকে। অপরাধের সেই ক্ষমতা কি আছে, যা উত্তাল  সমুদ্রকে শান্ত করে দেবে? ভয়ংকর ঝোড়ো বাতাসকে ডেকে নির্বোধ সমুদ্রের গর্জন-মত্ততাকে নপুংসক করা যায়? উত্তর খোঁজার আলো নেই,অন্ধকারকে দোষ দিচ্ছি তাই, কারণ, এটাই বড়ো সস্তা অথবা সহজও সে আমার চেতনাকেও কব্জা করে ফেলেছে আমার মনের কোণে কোণে বাসা বেঁধেছে শীতল আবেগ মৃত্যুর বিপরীত শব্দ তাই আমার কাছে মৃত্যুই! কারণ, আমার নপুংসক চেতনা জানিয়ে দেয়, আমি বাঁচলে সে বাঁচায়, আর মরলে সে-ই তার কারণ এক হাতে তালি বাজেনা জেনেও অন্য হাতের টুঁটিই চেপে ধরি, সে আমার দোষ নয়,তাঁর। হায় পরম পুরুষ তোমার রক্ষার দায় যদি তোমার সৃষ্টিকেই নিতে হয়! তবে সৃষ্টিকে বাঁচাবে কে? উত্তর খোঁজার আলো নেই,অন্ধকারকে দোষ দিচ্ছি তাই, কারণ, এটাই বড়ো সস্তা অথবা সহজও আর তোমা...

এক শালিকের গল্প

যদি ফিরে তাকাও এ চোখ পানে কিংবা ভাবো কী তার মানে দেখবে তুমি তাতে, একটি শালিক ঘর বেঁধেছে শীতে ভুবনটাকে আপন করে নিতে জ্বালছে আলো রাতে। যদি ফিরে তাকাও এ চোখ পানে কিংবা ভাব কী ...

📂 আলী হোসেনের জনপ্রিয় কবিতাগুলি পড়ুন